ভাষাদিবসে মিনারে মিনারে হোক তেলাওয়াত

অনলাইন ডেস্ক: মাসরুক বলল, ‘এখন তো মাদ্রাসাগুলোয় বাংলায় পাঠদান হয়। বাংলা কাগজ, বাংলা বই মাদ্রাসায় অনুমোদিত। ছোটবেলায় দেখতাম, এ মাদ্রাসায়ই পত্রিকা পড়ার জন্য, বাংলা সাহিত্য পড়ার অপরাধে বড় ভাইরা নির্দয়ভাবে মেরে নবীনদের বের করে দিত।

তখন মনে হতো, বাংলা পড়া বোধহয় অনেক বড় অপরাধ। এখন বুঝতে পারি, বাংলা-ইংরেজি-উর্দু-ফার্সি-আরবি সব ভাষাই সমান। সব ভাষার স্রষ্টাই আল্লাহতায়ালা। আমাদের শিক্ষক বলেন, তোমরা মনে কর আরবি ভাষা বোধহয় সব ভাষার রাজা।

আরবিতে কোরআন নাজিল হয়েছে, নবীজির ভাষা আরবি, বেহেশতের ভাষা আরবি ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু কোরআন-হাদিসের কোথাও এমনটি বলা নেই। কিছু হাদিসে আরবি ভাষার মর্যাদার কথা বলা হয়েছে। জগদ্বিখ্যাত মুহাদ্দিসরা সে হাদিসগুলো দুর্বল-বানোয়াট বলেছেন। কোরআনের কোথাও একমাত্র আরবি ভাষাই শ্রেষ্ঠ ভাষা এ কথা বলা নেই।

‘কোরআনে বলা আছে, সব নবীর প্রতিই আল্লাহতায়ালা মাতৃভাষায় অহি নাজিল করেছেন যেন উম্মতকে সহজেই প্রভুর বাণী বুঝিয়ে দিতে পারেন। অন্য আয়াতে আছে, মাতৃভাষা আল্লাহতায়ালার সৃষ্টি নৈপুণ্যের অন্যতম নিদর্শন।

শিক্ষক বলেন, এ দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমান কোরআনে বলা মাতৃভাষার তাৎপর্য বুঝতে পারেনি। তাই তো উর্দু-ফার্সি-আরবির পেছনে ছুটে জীবন-যৌবন সব শেষ করে ফেলছেন। হায় কে বোঝাবে, আরবি-বাংলা দুটোই প্রভুর সৃষ্টি ভাষা।

আরবি বললে যদি দশ নেকি হয়, তাহলে বাংলা বললেও দশ নেকিই হবে। একটুও কমবেশি হবে না। আরবি যদি শ্রেষ্ঠ ভাষা হতো, তাহলে সব আসমানি কিতাব আরবি ভাষায়ই নাজিল হতো।’

পবিত্র কোরআন ছাড়া আর কোনো আসমানি কিতাব আরবি ভাষায় নাজিল হয়নি।’ কোনো জাতিকে বড় করতে হলে, সমৃদ্ধ করতে হলে মাতৃভাষায়ই করতে হবে। অন্য ভাষায় নয়। ভাষাপণ্ডিত সৈয়দ মুজতবা আলীর লেখায় এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা যায়’

ভাষাশহীদদের জন্য ভূমিকা রাখতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে এ দেশের মাদ্রাসার সন্তানরা।

আমিও একজন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী। ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি, শহীদ মিনারে যাওয়া, ফুল দেয়া, নীরবতা পালন করা, প্রভাতফেরির মিছিল করা হারাম। কিন্তু শহীদদের জন্য ধর্মের আলোকে কী করণীয় তা আজ পর্যন্ত কোনো হজরতের মুখে শুনিনি।

আমরা যার কাছে হাঁটি হাঁটি পায়ে ধর্মের মর্ম শিখছি, জীবনবোধ শেখার চেষ্টা করছি, যুগান্তরের ধর্মপাতার সম্পাদক হাফেজ্জি হুজুরের স্নেহধন্য হাফেজ আহমাদ উল্লাহ বললেন, তোরা মাদ্রাসার ছেলেপেলেরা যদি ভাষাশহীদদের জন্য কোরআনখানি, মিলাদ-মাহফিলের ব্যবস্থা করতি, নফল নামাজ-রোজার রেওয়াজ চালু করতি, তাহলে ভাষাশহীদদের ঋণ কিছুটা হলেও পূরণ হতো।

জীবনভর শুধু হারাম হারাম বলেই জীবন কাটালি, দশটা ছেলে শহীদ মিনারে গিয়ে কোরআন তেলাওয়াত করতে পারলি না। তোরা পাঁচ হাজার হাফেজ যদি মাদ্রাসার উদ্যোগে প্রতি বছর ভাষাদিবসে শহীদ মিনারে রাতভর শহীদদের রুহের মাগফিরাতের জন্য কোরআন খতমের আয়োজন করতি, তাহলে রাষ্ট্র অবশ্যই তোদের নিরাপত্তাসহ সব ধরনের সহযোগিতা করত।

সব মিডিয়া চ্যানেল তোদের তেলাওয়াত আয়োজন প্রচার করত। ভাষার জন্য রক্ত দিয়ে পূর্বসূরিরা এক দুর্লভ নজির সৃষ্টি করেছেন, ভাষাদিবসের স্মরণে মিনারে মিনারে কোরআন খতম করে তাদের জন্য আমরা সওয়াব রেসানি করব। আল্লাহ আমাদের সে তাওফিক দিন।

লেখক : সাংবাদিক

Email : alfatahmamun@gmail.com

সংবাদ সুত্র: যুগান্তর।

শেয়ার করুন:

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest
Share on whatsapp
Share on email
Share on print

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ