চরম ‘দৈন্যদশায়’ দিন কাটাচ্ছে সিলেট বিএনপি

অনলাইন ডেস্ক: এক সময় সিলেট বিএনপির মিছিল-সমাবেশ মানেই ছিল হাজারো নেতাকর্মীর সমাগম। নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে সেই সমাগম এখন হাতেগোনা। সেই সাথে দলীয় কর্মসূচিও নেই বললেই চলে। কেন্দ্রের নির্দেশনায় দুই একটি কর্মসূচি পালন হলেও তা একেবারেই দায়সারা।

দীর্ঘদিন থেকে ক্ষমতার বাইরে, ক্যাম্পাস ভিত্তিক রাজনীতি না থাকা এবং কমিটি নিয়ে মান-অভিমান ভেতরে ভেতরে নেতাকর্মীদের পোড়ালেও অনেকেই মুখ খুলতে নারাজ। এছাড়া আছে নতুনদের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয় নেতৃত্বের অভিযোগ। সব মিলিয়ে বড় দৈন্যদশায় দিন কাটাচ্ছে সিলেট বিএনপি।

সিলেট বিএনপির নিজস্ব কোনো কর্মসূচি নেই দীর্ঘদিন থেকে। দলের মাঝে রয়েছে সমন্বয়ের অভাব। আছে অন্তর্দ্বন্দ্ব, যা একসময় পদত্যাগের ঘোষণা পর্যন্ত গড়ায়।

সর্বশেষ সিলেট যুবদলের কমিটি গঠন নিয়ে দলীয় কোন্দল আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। এসময় সিলেট বিএনপির একাংশ পদত্যাগের হুমকিও দেয়। তবে শেষমেশ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মিটমাট হয়। এরও আগে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটি নিয়েও পক্ষে-বিপক্ষে মিছিল, সমাবেশ হয়েছে।

বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী অভিযোগ করে বলছেন, দলের বিভিন্ন পর্যায়ে যারা দায়িত্বে আছেন তারা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করছেন না। সেজন্য দলের এই অবস্থা। এছাড়া তৃণমূলের কর্মীদের মূল্যায়ন না করা, যোগ্যদের যথাযথ স্থান না দেয়াও এর অন্যতম কারণ।

সিলেট বিএনপির বর্তমান অবস্থা নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় সহ ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রাজ্জাক বলেন, আন্দোলন হচ্ছে না কেন এটি আল্লাহ পাক বলতে পারবেন। আপনারা জানেন যেদিন আমরা বেগম খালেদা জিয়াকে সাজিয়ে গুঁজিয়ে জেলখানায় রেখে আসলাম। সেদিন আমরা সবাই মিলে মিছিল দিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয় এরপর আর আমরা কোন মিছিল করতে পারি নাই।

এজন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের ব্যর্থতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিলেট কোন ফ্যাক্টর না, ফ্যাক্টর হচ্ছে ঢাকা। এজন্য সবাইকে নেত্রীর মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হতে হবে।

দলে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে উল্লেখ করে এ নেতা আরও বলেন, যে কোন দলেই নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে। তাই বলে যে কাউকে আপনি নেতা বানাতে পারেন না। দলের এই ক্রান্তিলগ্নে সকল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা আছে। কিন্তু এমন একজনকে নেতা বানালেন যার নামে কোন মামলাই নেই।

দলের সুবিধাবাদীদের নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি কবি কাজী নজরুল ইসলামের একটি কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘এ সমাজে যে যত বেশি ভণ্ড, সে তত বেশি দাঁড়িবাজ’। তবুও দল আমাদের, আমরা অভিমান করতে পারি। কিন্তু দল ছাড়তে পারি না। কারণ আমরা ভাড়াটিয়া না, আমরা দলের তৃণমূলের কর্মী।

দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া জেলখানায় এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের বাইরে থাকায় কিছু ভুল সিদ্ধান্ত এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদেরকে হয়তো দেশের নেতাদের কাছ থেকে তথ্য নিতে হয়। সেজন্য এমনটা হয়েছে।

অন্যদিকে দলের দুর্দিন নিয়ে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, বর্তমানে দল পুনর্গঠনের কাজ চলছে। আমাদের মূল দলের পাশাপাশি সকল অঙ্গ-সংগঠনেরও পুনর্গঠন চলছে। এই কাজে বিভিন্নস্তরের নেতারা ব্যাস্ত রয়েছেন তাই সব কর্মসূচিতে আসতে পারছেন না।

সরকারের ‘গায়েবী’ মামলার সমালোচনা করে এই নেতা আরও বলেন, সরকার গত একদশকে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর যে অত্যাচার করেছে, তার পরও কিন্তু একজন নেতাকর্মী দল ছেড়ে যায়নি। আমাদের নেতাকর্মীদের বাসায় বাসায় পুলিশ দিয়ে হয়রানি, হুমকি প্রদান নিয়মিত ঘটনা। তবুও আমরা দলগুছাতে চেষ্টা করছি।

সিলেটে দলীয় মেয়র থাকার পরও দল এমন দুর্বল কেন; এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দলের মেয়র হলেও বর্তমানে তিনি সমঝোতার পথে হাঁটছেন। কারণ তিনি নির্বাচিত মেয়র। এজন্য তিনি নগরবাসীর কাছে দায়বদ্ধ। একই সাথে দলের কাছেও কিন্তু তিনি দায়বদ্ধ। তবুও আমরা দেখি তিনি মাঝেমধ্যে দলীয় অনুষ্ঠানে আসতে চাইলেও দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন। কারণ এগুলো নিয়ে আবার না সমালোচনায় পড়েন।

তবে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিষয় উড়িয়ে দিয়ে মহানগর বিএনপির এ নেতা বলেন, যারা এগুলো বলছেন বা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন তারা নিজেদেরকে আলোচনায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। এগুলো দলে তেমন প্রভাব ফেলেনি।

শেয়ার করুন:

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest
Share on whatsapp
Share on email
Share on print

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ