চাঁপাইনবাবগঞ্জে ধানের বাম্পার ফলন দাম নিয়ে হতাশায় কৃষকরা

চাঁপাই অনলাইন ডেস্ক: চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমনের বাম্পার ফলন হলেও ধানের নায্য মূল্য না থাকায় হতাশ কৃষকরা। ধানের মূল্য এত কমে গেছে যে, উৎপাদন খরচও উঠবে না বলে অভিযোগ কৃষকদের। অন্যদিকে কৃষি বিভাগ বলছে, সরকারিভাবে ধান কেনা শুরু হয়েছে। কৃষকরা আশানুরূপ ধানের দাম পাবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এবছর জেলার ৫২ হাজার ৯৭৮ হেক্টর জমিতে কৃষকরা ধানের আবাদ করেছে। আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৪০১ মেট্রিক টন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় ৮ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে ৩৯ হাজার ৩৭৫ ধান, নাচোলে ২২ হাজার ৫৭৮ হেক্টর জমিতে ১ লাখ ১ হাজার ৬০১, গোমস্তাপুরে ১৪ হাজার ৮৪৩ হেক্টর জমিতে ৬৬ হাজার ৭৯৪, ভোলাহাটে ৪ হাজার ২৪০ হেক্টর জমিতে ১৯ হাজার ৮০ ও শিবগঞ্জে ৭৫০ হেক্টর জমিতে ৩ হাজার ৩৭৫ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বরেন্দ্র অঞ্চলের ঝিলিমের আশরাফুল ইসলামসহ কয়েকজন কৃষক জানান, এবছর আমন ধানের উৎপাদন আশানুরূপ হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ধানের দাম কম হওয়ায় হতাশায় ভুগছেন। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বরেন্দ্র অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ধান কাটা শেষ হয়েছে। কৃষক ফজলুর রহমান জানান, ধান ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করতে পারলে লাভের মুখ দেখতে পাবেন। অন্যথায় তাদের লোকসান গুনতে হবে।

নাচোলের কৃষক রুহুল আমিন জানান, প্রতিবিঘা জমিতে ধানের উৎপাদন হয়েছে ১৪ থেকে ১৫ মণ এবং বিঘাপ্রতি জমিতে ধান চাষে কৃষকের খরচ পড়েছে সাড়ে ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা। উৎপাদিত ১২০ মণ ধান থেকে ২০ মণ ধান মজুরি হিসেবে শ্রমিককে দিতে হয়েছে। অথচ বাজারে ধান ৬০০ থেকে ৬৪০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে লোকসান গুণতে হবে তাদের।

এদিকে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপ-পরিচালক মো. মঞ্জুরুল হুদা বলেন, এবছর আবাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত ১ হাজার ৮১৭ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। তিনি আরো বলেন, নির্বাচিত কৃষকদের কাছ থেকে ৫ হাজার ৮৯৮ মেট্রিক টন ধান সরকারিভাবে ১ হাজার ৪০ টাকা মণ দরে ধান ক্রয় করা চলছে। ইতোমধ্যে অর্ধেক ধান ক্রয় করা হয়েছে।