রানু মন্ডলকে নিয়ে মিথ্যাচার

ইন্টারনেট দুনিয়ার নতুন সেনসেশন ভারতের রানাঘাট রেলস্টেশনের রানু মন্ডল। কিছুদিন আগেও যার দিন কেটেছে রেলস্টেশনে গান গেয়ে পথচারীদের কাছ থেকে পাঁচ-দশ টাকা সাহায্য নিয়ে। সেই রেলস্টেশনে বসেই তার গাওয়া লতা মঙ্গেশকরের ‘এক পিয়ার কা নাগমা হ্যায়’ গানটি সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যম ও ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়ার সুবাদে এখন তিনি রীতিমতো স্টার। তার সেই গানের ভিউ ইতোমধ্যে কোটির ঘর ছাড়িয়েছে।

সেই রানুকে এখন দাওয়াত দিয়ে নিচ্ছেন ভারতের বিভিন্ন রিয়্যালিটি শো কর্তৃপক্ষ। তেমনি একটি রিয়্যালিটি শো-য়ে রানুর কণ্ঠে এক লাইন গান শুনেই তাকে দিয়ে নিজের পরবর্তী ছবি ‘হ্যাপি হার্ডি অ্যান্ড হীর’-এর ‘তেরি মেরি কাহানি’ গানটি গাইয়েছিলেন বলিউডের বিখ্যাত সংগীত পরিচালক ও গায়ক হিমেশ রেশমিয়া। সেই গানটিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

তবে রাতারাতি ভাইরাল হওয়া রানাঘাটের সেই রানুকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ছড়ানো হচ্ছে নানা মিথ্যাচার। প্রথম মিথ্যাটি ছড়ানো হয় হিমেশের ‘তেরি মেরি কাহানি’ গানটি নিয়ে। এই গান গাওয়ার জন্য রানু মন্ডলকে নাকি সাত লাখ টাকা দিতে চেয়েছিলেন হিমেশ। প্রথমে রানু টাকা নিতে চাননি, পরে নাকি তাকে জোর করে টাকা দেয়া হয়।

কিন্তু এই খবরের কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন অতীন্দ্র চক্রবর্তী নামে এক ব্যক্তি। এই অতীন্দ্রই রানুর প্রতিভাকে সোশ্যাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে রানাঘাট রেলস্টেশন থেকে পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্বের দরবারে। তার মাধ্যমেই রানুর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন হিমেশ রেশমিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।

বর্তমানে অতীন্দ্রর সঙ্গে রানু রয়েছেন মুম্বাইয়ে। অতীন্দ্র বলেন, ‘গান গাওয়ানোর জন্য হিমেশ স্যার রানু দিদিকে টাকা দিয়েছেন- এ খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। হিমেশ স্যারের মতো বড়মাপের একজন সংগীত পরিচালক রানু দিদিকে বলিউডে প্লেব্যাক করার সুযোগ দিয়েছেন। নিজের প্রতিভাকে তুলে ধরার এত বড় একটা প্ল্যাটফর্ম পেল রানুদি। এটাই সব থেকে বড় কথা। টাকা পয়সার প্রসঙ্গ এখানে আসেই না।’

শুধু তাই নয়, অতি সম্প্রতি ছড়ানো হয়েছে নতুন আরেক মিথ্যাচার। একটি সর্বভারতীয় পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, বলিউড সুপারস্টার সালমান খান তার পরবর্তী ছবি ‘দাবাং-৩’-এর একটি গান গাওয়াবেন রানুকে দিয়ে। তার বিপরীতে রানু মন্ডলকে ৫৫ লাখ দিয়ে একটা ফ্ল্যাট কিনে দিচ্ছেন ভাইজান। কিন্তু সালমান খানের তরফ থেকে এ ধরনের কোনো প্রস্তাব আসেনি বলে জানান অতীন্দ্র। তিনি বলেন, ‘রানুদির পকেটে এখন পাঁচ টাকাও নেই। আর লোকে মজে আছে ৫৫ লাখের গল্পে।’

শেয়ার করুন:

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest
Share on whatsapp
Share on email
Share on print

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ